ঈদের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন দলের নেতৃত্ব দেবেন। ২৪ বা ২৫ মার্চ তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় এবং ঋণের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দলটি অর্থমন্ত্রী, অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো ছাড় হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঋণ কর্মসূচি চালু রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাজেট সহায়তার অর্থ পাওয়া সহজ হবে।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কর্মসূচির বড় শর্তগুলোর বেশির ভাগই পূরণ হয়েছে। নতুন সরকার সেগুলো আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করলে আইএমএফের আপত্তি থাকার কথা নয়।
অন্যদিকে সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, নতুন সরকার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষই ঋণ কর্মসূচি চালু রাখতে চাইবে।
এদিকে রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর আদায় বাড়াতে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। না হলে অবকাঠামো ও সামাজিক খাতে সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক–এর বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। সেখানে আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।