কুষ্টিয়ার জোড়া লাগানো জমজ শিশু জয়নব-উম্মে কুলসুমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলো সরকার। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শিশু দুটিকে পৃথক করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিন রাতে জমজ জোড়া শিশুকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় শিশুদের পরবর্তী চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে শিশু দুটির খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। টাকার অভাবে তারা চিকিৎসা নিতে পারছে না। এরপরই প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিষয়টি দেখতে বলেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন। তখন গ্রামে থাকা শিশু দুটির বাবার সাথে আমি নিজেই কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসি।
তিনি বলেন, শিশুদেরকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অস্ত্রোপচার করা সহ যাবতীয় চিকিৎসার খরচ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হবে।
শিশু দুটির শারীরিক জটিলতা নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সদরুদ্দিন আল মাসুদের সাথে। তিনি বলেন, আজ রাতেই জোড়া লাগানো শিশু দুটি হাসপাতালে এসেছে। তাদেরকে কেবিনে ভর্তি রাখা হয়েছে। শিশু দুটির বুক ও পেট জোড়া লাগানো। প্রথম জটিলতা হচ্ছে তাদের দুজনের হার্ট একটি। এজন্য তারা খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছে। আগামীকাল মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাদের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দিলগাতুয়া গ্রামের নাহিদ হাসান ও সানজিদা ইয়াসমিন মুক্তা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান এটি। এর আগে নোমান নামে দেড় বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে। নাহিদ হাসান গ্রামে একটি দোকানে ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন।
নাহিদ হাসান জানান, গর্ভকালীন ৫ মাসের সময় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন, জোড়া বাচ্চার বিষয়টি। এরপর ৮ মাসের সময় চিকিৎসকরা তাদের জানান, বাচ্চা দুটি একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো। পরবর্তীতে গত ৩ মাস ৭ দিন আগে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় শিশু দুটি। জন্মের ৪ দিন পর নবজাতকদের নিয়ে গ্রামে চলে যান তারা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিশু দুটির চিকিৎসা ও পৃথককরণে কোনো রাস্তা দেখছিলেন না পরিবারটি। তখনই সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে বিষয়টি।