দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবহার বাড়ায় রাজধানীসহ শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানিটির চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের ‘নীরব ঘাটতি’ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এ অভিযোগ করেন। চিঠিতে চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতির পাশাপাশি মোট গ্যাসের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর প্রভাবে সারা দেশে ডিজেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়িয়ে বিপণন কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জ্বালানি সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে—এমন নির্দেশনা থাকায় অনেক পেট্রোল পাম্প প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল মজুত করতে পারছে না। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা ডিজেল দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে রেশনিং করে গ্রাহকদের জ্বালানি দিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। জেনারেটর চালাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন হলেও সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে।
তিনি বলেন, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার মতো শিল্পঘন এলাকায় পরিস্থিতি বেশি সংকটপূর্ণ। আগে এসব এলাকার একটি পাম্পে দৈনিক ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ২০ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সরবরাহ বাড়ানো হয়নি।
কাবুল আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে একটি পাম্পকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল দিয়ে বলা হচ্ছে পরদিন আবার জ্বালানি নিতে আসতে। এতে পাম্পগুলো প্রয়োজনীয় মজুত রাখতে পারছে না এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘প্যানিক’ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি জানিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির মতে, শিল্পাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় নিয়ন্ত্রিত সরবরাহের সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।