দামুড়হুদায় দিনদুপুরে নৃশংস হামলার বিচারের দাবিতে রাজপথে পরিবার

ছবি : সংগৃহীত।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা খাঁ পাড়ায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র যুবকের বর্বরোচিত হামলায় একটি পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মেম্বারের ভাড়াটে বাহিনীর এই নৃশংসতায় বর্তমানে ঢাকার দুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন দুই ভাই। 

এদিকে, গণপিটুনিতে এক হামলাকারীর মৃত্যুর পর ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

গত শনিবার বিকেলে দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার বাবলু খাঁর বাড়িতে নেমে আসে অতর্কিত এক নারকীয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসা একদল হেলমেটধারী যুবক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাবলু খাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা বাবলু খাঁর দুই ছেলে রাজু ও সাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জমাট বাঁধা রক্ত আর ভাঙা আসবাবপত্র এখনো সেই বীভৎসতার সাক্ষী দিচ্ছে।

হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে একজন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং অন্যজন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

হামলার কারণ হিসেবে জানা গেছে, একটি গরু চুরির ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাহিদুল মেম্বারের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ভাঙা এবং সেই মোবাইল কিনে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে জাহিদুল মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার দিন প্রতিবেশীরা ধাওয়া করে সাজু নামের এক হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠালে গত ২৩ তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাজু জানিয়েছিল, জাহিদুল মেম্বারই তাদের ভাড়া করে এনেছিলেন।

হামলার কয়েক দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত জাহিদুল মেম্বার এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। উল্টো পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী রাজপথে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ঘরে ফিরে যান।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন চুয়াডাঙ্গার অন্যতম আলোচিত ও ভীতিকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাবলু খাঁর পরিবার এখন কেবল তাদের ছেলেদের সুস্থতা নয়, বরং এই বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী জাহিদুল মেম্বার ও তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইফতারের কতক্ষণ পর চা খাবেন?

দামুড়হুদায় দিনদুপুরে নৃশংস হামলার বিচারের দাবিতে রাজপথে পরিবার

মার্কিন-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল সফরে মোদি

প্রেমের টানে সব বাধা ডিঙিয়ে শ্রীলঙ্কান তরুণী ফেনীতে

পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ডিএমপি কমিশনার

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

জনপ্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষায় বড় রদবদল শুরু

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী

১০

এলপি গ্যাসের দাম কমল

১১

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান

১২