হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। শনিবার (১৬ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন, জাপান ও পাকিস্তানের পর আজ আমরা তথ্য পেয়েছি, ইউরোপীয়রাও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করার পর জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান। গত এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
সমুদ্রপথটির ওপর ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে এবং তেহরানকে একটি বড় ধরনের সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের (হরমুজ) প্রণালি ব্যবস্থাপনা প্রটোকল নিয়ে চুক্তির পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা চীনসহ বিভিন্ন দেশের ডজনখানেক জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে।’
এদিকে শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, ইরান এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘একটি পেশাদার কাঠামো তৈরি করেছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে’।
আজিজি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা পক্ষগুলো সুফল পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষায়িত সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ফি বা মাশুল আদায় করা হবে।’