যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান। এমনকি দেশটির প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হবে। কিন্তু আমেরিকার কিছু মানুষ প্রশ্ন তোলে-কেন এমনটা করা হবে? তারা আসলে বোকার মতো কথা বলে।’
তিনি ইঙ্গিত দেন, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খারগ দ্বীপ দখল করা হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো খারগ দ্বীপ দখল করতে পারি, আবার নাও করতে পারি। আমাদের সামনে অনেক বিকল্প আছে। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করাও লাগতে পারে।’
দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। খুব সহজেই আমরা এটি দখল করতে পারব।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এতে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে। তবে শিগগিরই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তাঁর ভাষায়, একটি সমঝোতা ‘খুব দ্রুতই’ হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’ নিয়েও কথা বলেন। তাঁর দাবি, সংঘাতের শুরুর দিকেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলছি, তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন একদল মানুষ। তারা খুবই পেশাদার।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি- যাকে উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল- তিনি হয় নিহত হয়েছেন, না হয় গুরুতর আহত অবস্থায় আছেন।