মার্জিন ঋণ বিধিমালা-২০২৫ সংশোধনের গেজেট মঙ্গলবার রাতে প্রকাশ হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণযোগ্যতা আগের ৩০ পিই রেশিও থেকে বাড়িয়ে ৪০ পিই রেশিও করা হয়েছে। এ পরিবর্তনের কারণে আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ার মার্জিনযোগ্য হবে।
আর জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে মার্জিনযোগ্যতা কমপক্ষে ৩ পিবি রেশিও থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ার এনএভির ৩ গুণ হলে মার্জিন যোগ্য হবে। নেগেটিভ এনএভিতে মার্জিন নয়।
আজ মঙ্গলবার ডিএসইতে মার্জিনযোগ্য শেয়ার ছিল ১২০টি। তবে আগামীকাল বুধবারের জন্য সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী মার্জিনযোগ্য শেয়ারের নতুন তালিকা প্রকাশ করবে স্টক এক্সচেঞ্জ। প্রায় সকল ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, মার্জিন ঋণ বিধিমালায় যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা তাদের প্রত্যাশার চাইতেও বেশি।
এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে খোন্দকার রাশেদ মাকসুদের বিধিমালা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে যেভাবে মার্জিন দেওয়া কঠিন করেছিল, সেসব কঠোর বিধি-নিষেধের প্রায় পুরোটা তুলে দিয়েছে মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন (বিএসইসি)।
বাজার পরিস্থিতি
নানা কারণে গত কয়েকদিনের নিম্নমুখী ধারার পর আজ নতুন বিধিমালার সংশোধন গেজেট প্রকাশের পর আজ মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে ঊধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে বেলা ১১টায় তালিকাভুক্ত ও লেনদেনযোগ্য ৩৫৩ কোম্পানির মধ্যে তিন শতাধিকের দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সূচক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে লেনদেন সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে শেয়ারদর ও সূচক আরও বাড়তে দেখা গেছে।
তবে লেনদেন কিছুটা কম। আজ প্রথম ঘণ্টায় প্রায় ২৪৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গতকালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা কম।
সংশোধিত বিধিমালায় যেসব প্রধান পরিবর্তন আনা হয়েছে পিই রেশিও ৪০ পর্যন্ত মার্জিন সুবিধা
সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণযোগ্যতা আগের ৩০ পিই রেশিও থেকে বাড়িয়ে ৪০ পিই রেশিও করা হয়েছে। এর ফলে আগে যেসব কোম্পানি ৩০-এর বেশি পিই থাকার কারণে মার্জিন সুবিধা পেত না, তারা এখন ঋণের আওতায় আসবে। প্রায় সকল ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা প্রত্যাশার চাইতেও বেশি।
জীবন বীমা কোম্পানির জন্য বিশেষ নিয়ম
জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে মার্জিন যোগ্যতা কমপক্ষে ৩ পিবি রেশিও (প্রাইস টু বুক ভেল্যু) হওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ার দর এনএভির (নিট অ্যাসেট ভ্যালু) কমপক্ষে ৩ গুণ বা তার বেশি হলে মার্জিনযোগ্য হবে।
নেগেটিভ এনএভি ও ক্যাটাগরি বিধিনিষেধ
কোনো কোম্পানির শেয়ার যদি ‘জেড’ ক্যাটাগরি, ‘এন’ ক্যাটাগরি বা ‘জি’ ক্যাটাগরিতে থাকে, তবে সেই শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। এছাড়া যেসব কোম্পানির আর্নিং পার শেয়ার বা ইপিএস নেগেটিভ, তারাও মার্জিন সুবিধা পাবে না। নতুন বিধিমালার আওতায় জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে নেগেটিভ এনএভি থাকলে কোনো মার্জিন ঋণ দেওয়া হবে না।
মার্জিন কল ও ফোর্স সেল
মার্জিন নেওয়া পোর্টফোলিও এর ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিজস্ব মূলধন ৫০ শতাংশে নামলে মার্জিন কল হবে। আর ২৫ শতাংশে নামলে ফোর্স সেল হবে।