আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা অ্যামনেস্টির

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও আদালতটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। খবর আনাদোলু

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশে সই করেন। ওই আদেশের আওতায়ই আকানে ও সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আইসিসির ১০ কর্মকর্তাকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের নামে থাকা যেকোনও সম্পদ আটকে যাবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের লেনদেন করতে পারবে না।

২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর আদালটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডে ‘সরাসরি’ যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে—যে দেশের সরকার আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি।

রুবিও বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য আইসিসির হুমকি দূর করতে আমাদের পুরো সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যাপক হবে’। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে যোগ দেবে বলে তারা আশা করছেন।

এর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, আদালতটি ‘মার্কিন সার্বভৌমত্বের’ জন্য হুমকি তৈরি করেছে। গত মাসে ক্যাম্প ডেভিডে দেয়া বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় আইসিসি ‘নিজেকেই অবৈধ’ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়।

এরপর ট্রাম্প বলেন, রুবিও ‘বিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার’ চেষ্টা করছেন। এখানে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘বিবি’ নামে উল্লেখ করেন।

এদিকে আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে নিষেধাজ্ঞার এই উদ্যোগের শুরু থেকেই এর সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা বিচারকরা তাদের দায়িত্ব কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন, তাতে কোনও পরিবর্তন আনতে পারবে না।

আকানে বলেন, ‘আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচার নিয়ে আমরা কারও কোনও ধরনের চাপ কখনোই মেনে নেব না’। তিনি আরও বলেন, আদালতের ‘স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই আমাদের মূল ভিত্তি এবং তা অটুট থাকবে।’

তবে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসি এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কলকাতায় গভীর রাতে হোটেলে আগুন, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি

আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা অ্যামনেস্টির

স্বামী হারালেন কারাবন্দী ডা. দীপু মনি, বুধবার প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন

চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঁচ নির্বাচন: মীর শাহে আলম

দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক

খেলাধুলার মাধ্যমে দেশে নতুন নেতৃত্বের জন্ম হবে: শিক্ষামন্ত্রী

১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১,আহত-২

মার্জিন ঋণ বিধিমালায় যেসব পরিবর্তন আনা হলো

বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে দুবাই, মানতে হবে যেসব শর্ত

১০

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

১১

গাজায় ২১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত, তাঁবুতে ৮ লাখ ৬৭ হাজার

১২