ভোলায় অপচিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকায় বন্ধন হেলথ কেয়ার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির নাম লামিয়া আক্তার (২২)। তিনি ভোলা শহরের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকার বাসিন্দা শরিফের স্ত্রী। স্বজনদের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য লামিয়াকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, লামিয়ার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ হলেও কোনো ক্রস ম্যাচিং ছাড়াই ‘বি পজিটিভ’ রক্ত দেওয়া হয়। পরে বরিশালে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুল রক্ত দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর ক্লিনিকের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভোলা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলা ও চরফ্যাশনে অনুমোদন ও তদারকি ছাড়াই অনেক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। নজরদারির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বাড়ছে এবং চিকিৎসার অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।