৪ হাজার কারাবন্দী যে সিনেমার গল্প লিখেছেন

ছবি: সংগৃহীত।

বলিউডের সিকুয়েলের ধারণা নতুন নয়; কিন্তু এমন গল্প খুব কমই আছে, যেখানে একটি ব্লকবাস্টার ছবির দ্বিতীয় কিস্তির বীজ রোপিত হয়েছে জেলের ভেতরে; আর সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সঞ্জয় দত্ত।

বলিউডের আইকনিক চরিত্র ‘বাল্লু বলরাম’ নিয়ে ৩৩ বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন সুপারস্টার সঞ্জয় দত্ত। ১৯৯৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘খলনায়ক’-এর সিক্যুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’ নির্মাণের জন্য এবার হাত মিলিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রযোজনা সংস্থা জিও স্টুডিওস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই মেগা প্রজেক্টের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সিনেমার পাণ্ডুলিপি তৈরির পেছনের গল্পটি অভাবনীয়। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলায় কারাবাসের সময় সঞ্জয় দত্ত জেলের প্রায় ৪,০০০ বন্দিকে তাঁদের জীবনের প্রেক্ষাপটে ছোট ছোট গল্প লিখতে বলেছিলেন। সেই ৪,০০০ বন্দির পাঠানো গল্পের সারাংশ থেকেই তৈরি হয়েছে 

 প্রায় তিন দশক আগে মুক্তি পাওয়া ‘খলনায়ক’ আজও জনপ্রিয়। আর সেই ছবির উত্তরাধিকার নিয়ে আবার ফিরতে চলেছে ‘খলনায়ক রিটার্নস’। নতুন সময়ের ভাষায় পুরোনো চরিত্রের পুনর্জন্ম। এই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা শুধু সিনেমার নয়; বরং এক মানুষের ব্যক্তিগত যাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতায় জর্জরিত জীবন, আর তারই অংশ হিসেবে জেলে কাটানো সময়—এই অধ্যায়টি সঞ্জয় দত্তের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ও কঠিন সময়গুলোর একটি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই অন্ধকার সময়ই হয়ে ওঠে এক সৃষ্টিশীল মুহূর্তের সূচনা।

সঞ্জয় দত্ত নিজেই জানিয়েছেন, জেলের ভেতরে তিনি প্রায়ই গান বাজাতেন। আর তখনই তিনি লক্ষ করেন, সহবন্দীরা বারবার শুনতে চাইতেন ‘খলনায়ক’-এর গান। সেই ছবির প্রতি তাঁদের উন্মাদনা তাঁকে ভাবতে বাধ্য করে, ‘এই গল্প কি আবার বলা যায়?’

একদিন কৌতূহলবশত তিনি জেলের প্রায় চার হাজার বন্দঅকে প্রশ্ন করেন, ‘যদি “খলনায়ক” আবার বানানো হয়, দেখবে?’ উত্তর আসে একসঙ্গে, ‘হ্যাঁ।’ এ যেন এক অদ্ভুত গণভোট, যেখানে দর্শক নেই, আছে বন্দী; নেই প্রেক্ষাগৃহ, আছে কারাগারের দেয়াল। কিন্তু সেখানেই জন্ম নেয় একটি সম্ভাবনা।

এরপর যা ঘটে, তা আরও অবিশ্বাস্য। সঞ্জয় দত্ত সহবন্দীদের বলেন, তাঁরা যেন ছবির জন্য নিজেদের আইডিয়া লিখে দেন। ফলাফল, চার হাজারেরও বেশি এক পাতার গল্প!

এ ঘটনা শুধু কৌতূহলোদ্দীপক নয়; বরং চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এক বিরল উদাহরণ। এত মানুষের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও কল্পনা—সব মিলিয়ে যেন এক বিশাল ভান্ডার।

সব কটি আইডিয়া পড়তে সময় লেগেছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু সেই হাজারো চিন্তার ভিড় থেকে একটি ধারণা সঞ্জয়কে নাড়া দেয়। সেটিই হয়ে ওঠে ‘খলনায়ক রিটার্নস’-এর ভিত্তি।

জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর, প্রথম সুযোগেই সঞ্জয় দত্ত যোগাযোগ করেন ছবির মূল নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের সঙ্গে। গল্প শুনে ঘাইও উচ্ছ্বসিত হন। তাঁর এককথার জবাব, ‘এটা বানানো উচিত।’

এই জায়গাটিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ‘খলনায়ক’ শুধু একটি ছবি ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। ‘বল্লু’ চরিত্রটি যেমন নায়ক-খলনায়কের সীমারেখা ভেঙে দিয়েছিল, তেমনি নতুন ছবিতেও সেই জটিলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।

সঞ্জয় জানান, তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘থ্রি ডাইমেনশন মোশন পিকচার্স’এবং প্রযোজক ‘অ্যাসপেক্ট এন্টারটেইনমেন্ট’ যৌথভাবে ছবিটির সিকুয়েলের স্বত্ব কিনে নিয়েছেন পরিচালক সুভাষ ঘাই এবং তাঁর সংস্থা ‘মুক্তা আর্টস’থেকে। এই ছবির প্রথম ভাগে দেখা গিয়েছিল মাধুরী দীক্ষিত ও জ্যাকি শ্রফকে। খবর, সিকুয়েলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘খলনায়ক রিটার্নস’। ইতিমধ্যেই নাকি তৈরি হয়ে গেছে ছবির প্রথম ঝলকও।

এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন, ‘“খলনায়ক”-এর যাত্রা দীর্ঘ। সুভাষজি না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। তিনি একজন কিংবদন্তি। এই নতুন ছবিতেও তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫০তম প্রদর্শনীতে ‘ফেরিওয়ালা’, ১১ সেপ্টেম্বর মঞ্চে অবয়ব

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয়

বিবাহ-তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাইজেশন হচ্ছে, কমবে বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ : আইনমন্ত্রী

হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, নিহত ২

পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, সেপ্টেম্বরের শেষে প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে

ফেনীতে পুলিশের অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৮

আজকের নামাজের সময়সূচি

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

মাধ্যমিকের শিক্ষকদের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা

১০

ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

১১

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে আমিন বিমানের টিকিটের ছবি পাঠিয়েছিলেন স্বজনদের

১২