পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অন্তত চারজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বিজেপি এবং দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। একাধিক ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য ও তিনজন বিএসএফ জওয়ান। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গেলে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

প্রথম হত্যার ঘটনা ঘটে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। অভিযোগ, বিজেপির জয় উদযাপনের সময় যাদব বর (৪৮) নামে এক কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরিবারের দাবি, তৃণমূল-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

এদিকে নিউটাউনের বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় নিখোঁজ তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে বীরভূমের নানুরে আবির শেখ (৪৫) নামে আরেক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে তাদের শতাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং বহু প্রার্থীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের নাম ব্যবহার করে দুষ্কৃতীরা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে সহিংসতা দমনে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি রাজ্যের প্রশাসন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কোথাও সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে এবং শুধু কলকাতাতেই অন্তত ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি বলে জানানো হয়েছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল বা ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।

নির্বাচনের পর রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বেশি ভোক্তার বাজারে প্রবেশ: ববি হাজ্জাজ

ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

যুদ্ধের চাপ,রাজনৈতিক অস্থিরতা-ইসরায়েল ছাড়ছেন হাজারো মানুষ

জকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ, ভিপিকে মেরে ক্যাম্পাস ছাড়া করল ছাত্রদল

৬ আগস্ট থেকে সাধারণের জন্য খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল;গুজব নাকি বাস্তবতা?

৫ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে জুলাই জাদুঘর, সাধারণের জন্য খুলছে পরদিন

শেষ মুহুর্তে বদলে গেলো সিদ্ধান্ত!ইউক্রেনে হামলা করল না ইরান

১০

সমকামিতা কি জন্মগত নাকি পরিবেশের প্রভাব?

১১

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা

১২