চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ছেলের ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য জানতে গিয়ে কথিত দালালদের হামলার শিকার হয়েছেন কানিজা আফরোজ (৪০) নামে এক নারী। প্লাস্টিকের পাইপ ও রড দিয়ে করা এই হামলায় গুরুতর আহত ওই নারীর মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কানিজা আফরোজ পৌর এলাকার বালুবাগান মহল্লার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য জানতে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও তার ছেলেকে গালাগাল করেন। পরে তারা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন।
কানিজা বলেন, তিনি আগে পরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিলে মাথায় তিনটি সেলাই দেয়া হয়।
কানিজা আফরোজ বলেন, ‘আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারা রোগী ও স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে কোনো কর্মচারী সেখানে না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিলে তাকে সহায়তা করা হবে।
সদর থানার ওসি ইকরামুল হোসেন বলেন, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।