মেহেরপুরে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শাকিল হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম ঘোষণা করেন এ রায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে ও ভার্চ্যুয়াল ভিডিও কলে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দেওয়া হয়েছে এ রায়। তিনদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় ১২ জন সাক্ষীর।
দণ্ড পাওয়া শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে।
রায়ের বিষয়টি আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার বাবাকে বাড়ির পাশের মাঠে খাবার দিতে যাচ্ছিল। এ সময় শাকিল হোসেন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন তাকে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ইছানুল হক একটি ধর্ষণ মামলা করেন গাংনী থানায়।
মামলার পর পুলিশ শাকিল হোসেনকে আটক করে পাঠায় কারাগারে। এরপর আদালত ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ভার্চ্যুয়াল ভিডিও কল ও সশরীরে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনের মতে, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে শিশু ধর্ষণ ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দৃষ্টান্ত হবে এই রায়। মাত্র ২৯ কার্য দিবসে এমন একটি রায় মেহেরপুরে প্রথম।’
এদিকে দণ্ড পাওয়া শাকিল হোসেনের পক্ষের আইনজীবী অ্যডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজনের দাবি, ‘মামলায় অনেক ত্রুটি রয়েছে। সুযোগ রয়েছে উচ্চ আদালতে আপিল করার।’