মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব সাময়িকভাবে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে চলে গেছে।
ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিত থাকলে উপ-রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন।
সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে রদ্রিগেজ মার্কিন সামরিক অভিযানের কড়া নিন্দা জানিয়ে মাদুরো দম্পতির দ্রুত মুক্তির দাবি করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
ডেলসি রদ্রিগেজ দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
তিনি আগে যোগাযোগ ও তথ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন মাদুরো। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত তিনি অর্থ ও তেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা দাবি করছে, ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল জাল এবং মাদুরো বৈধ প্রেসিডেন্ট নন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর ঘনিষ্ঠ এবং তার পূর্ণ আস্থা অর্জনকারী একজন শক্তিশালী নেতা।
এদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুনভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তবে রদ্রিগেজ প্রকাশ্যে সেই বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট এখনো নিকোলাস মাদুরোই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেলসি রদ্রিগেজই ভেনেজুয়েলা সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ হয়ে উঠেছেন।
সূত্র: সিএনএন