সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জোটের সমঝোতায় অস্বস্তি: জামায়াত সমর্থকদের ক্ষোভ, আলোচনায় ড. আব্দুস সামাদ

ছবি: প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার প্রথম পর্বে সিরাজগঞ্জ জেলার দুটি আসন শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসন পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রউফকে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্থানীয় সাধারণ ভোটার এবং জামায়াতের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি প্রার্থীদের।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতের সমর্থনের পর এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে। যদিও নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারছেন না, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানামুখী আলোচনা।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জ ও তাড়াশ অঞ্চলে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করছেন।

স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মতে, প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ একজন শিক্ষিত, দক্ষ রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও মানবদরদী ব্যক্তি। তারা মনে করছেন, তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করলে অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই হতো এবং বিজয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল ছিল। জামায়াতের অনেক সমর্থকের ধারণা, তাকে চূড়ান্তভাবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করা সম্ভব হতো।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রউফ এই অঞ্চলের মানুষের কাছে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, তিনি ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ হলে জামায়াতে ইসলামীর সুসংগঠিত ভোটব্যাংক থাকা সত্ত্বেও আসনটি হাতছাড়া হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ বলেন,“আমি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রায়গঞ্জ ও তাড়াশ সংসদীয় আসনের প্রতিটি এলাকায় আমার পরিচিতি রয়েছে। দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ করে জামায়াতের পক্ষে ভালো অবস্থান তৈরি করেছি। আমি আশা করছি, আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব।”

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,“এ বিষয়ে এখনো দলীয় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাকে জানানো হয়নি। দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে তখন মন্তব্য করতে পারব।”

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জোটের এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রভাব ফেলবে এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসে কি না—সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় রাজনীতিসচেতন মহল।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর জামিন নামঞ্জুর

চমক রেখে পাকিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

সলঙ্গায় বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন

৫ বছরের সাজা হতে পারে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের

বিদেশে যাওয়া-আসার সময় রাষ্ট্রাচার সীমিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতির ভাষণে কী থাকবে জানালেন তথ্যমন্ত্রী

এবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

১০

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন

১১

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের অবস্থান

১২