পারস্পরিক সামরিক হামলা বন্ধে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যম। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার কাতারের দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও বৈঠকে বসবেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উপায় এবং নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছায় ওয়াশিংটন ও তেহরান। ওই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈরিতার মধ্যেও আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধের আশাও জোরালো হয়।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হলেও, তার মধ্যেই উভয় পক্ষ আবারও একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। অপরদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এর মধ্যেই কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি বলেন, ইরান যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার যুদ্ধে ফিরতে বাধ্য হয়, তাহলে 'ইরানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।'