বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাবনার চাটমোহরে বহিষ্কৃত কৃষকদল নেতার বাড়ি থেকে এবার বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির কেমিক্যাল ও দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া এলাকা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সদস্যরা আব্দুল মোমিন ও তার সহযোগী আল আমিন হোসেনের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দুধ তৈরির জেলি (কেমিক্যাল) জব্দ করে। এ সময় ভেজাল দুধ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয় আব্দুল মোমিনের বাবা আজিজুল প্রামাণিককে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কেমিক্যাল ও পামওয়েল তেল দিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিলেন আজিজুল প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল মোমিন। এসব ভেজাল দুধ দেশের বড় বড় কোম্পানির দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। গত বছরের ১৯ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী গোপন সংবাদর ভিত্তিতে আব্দুল মোমিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০ মণ নকল দুধ, কেমিক্যাল, মিক্সার গ্রাইন্ডারসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করেন।
এরপর তার দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে অভিযান চালায় ইউএনও। এ সময় আব্দুল মোমিনকে ৫০ হাজার জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী। পরবর্তীতে আর ভেজাল দুধ তৈরি করবেন না মর্মে মুচলেকা দেন আব্দুল মোমিন। এরপর বিলচলন ইউনিয়ন কৃষ কদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে দল।
কিন্তু এরপরেও থেমে থাকেনি তার ভেজাল দুধ তৈরির কারবার। শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআইয়ের পাবনা জেলার উপ-পরিচালক এ.বি.এম লুৎফুল কবির, ফিল্ড অফিসার জাকারিয়া সুলতান, মামুনুর রশিদ, সেনেটারী ইন্সপেক্টর (স্বাস্থ্য পরিদর্শক) এসএম আসলাম হোসেনসহ এনএসআইয়ের সদস্যরা আব্দুল মোমিন ও তার সহযোগী আল আমিন হোসেনের বাড়িতে দুধ তৈরির সময় ৬১০ লিটার কেমিক্যাল, ভেজাল দুধ ১২০ লিটার ও দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করে।
এ সময় এনএসআই সদস্যদের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি করে পালিয়ে যান আব্দুল মোমিন ও তার সহযোগী আল আমিন। পরে খবর পেয়ে ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুধ তৈরির কেমিক্যালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেন। আটক করা হয় আব্দুল মোমিনের বাবা আজিজুল প্রামাণিককে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী জানান, বিপুল পরিমাণ দুধ তৈরির কেমিক্যাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করার জন্য বলা হয়েছে।