পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আন্তরিকতা ও দৃঢ়তা প্রমাণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (রাজনীতি বিষয়ক) মাজিদ তাখত-রাভানচি। আর সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাখত-রাভানচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রমাণ করতে হবে তারা চুক্তি চায় কি না। তারা যদি আন্তরিক হয়, তাহলে আমি নিশ্চিত আমরা একটি সমঝোতার পথে এগোতে পারব।’
ইরানের আলোচক দলের সদস্য তাখত-রাভানচি জানান, ওমানের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত উভয় পর্যায়েই ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা শুনছি যে তারা (আমেরিকানরা) আলোচনায় আগ্রহী।’ ইরানের শাসনব্যবস্থা পাল্টে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, এমন কোনো বার্তা পাননি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপড়েনের কূটনৈতিক সমাধান আশা করে তাখত-রাভানচি যোগ করেন, ‘আমরা আশা করছি কূটনৈতিক পথেই সমাধান সম্ভব হবে, যদিও আমরা শতভাগ নিশ্চিত হতে পারি না। ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে হঠাৎ করে বিস্মিত হতে না হয়।’
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম পাতলা (ডাইলিউট) করার প্রস্তাব তেহরানের সমঝোতার সদিচ্ছার প্রমাণ।
তিনি বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরা আমাদের (পারমাণবিক) কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়সহ অন্যান্য ইস্যু নিয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত।’
তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন তাখত-রাভানচি। তার ভাষায়, ‘যখন আমাদের ওপর ইসরায়েল ও আমেরিকা হামলা চালিয়েছিল, তখন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রই আমাদের রক্ষা করেছে। তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা ত্যাগ করার বিষয়ে সম্মত হব?’