যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খাওয়ায় ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধারণা, যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে অসন্তুষ্ট মার্কিন ভোটাররা নির্বাচনের মাধ্যমে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটন এবার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে নজর রাখছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
এপি জানায়, যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী ফলাফলে। বিষয়টিকে ইরানের নেতারা নিজেদের জন্য ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে, আমরাও এই বার্তাকে সমর্থন করি।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিবর্তনের পক্ষে দেওয়া ভোটকে মার্কিন সরকার উপেক্ষা করলে ইরানের ‘না’ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা তারা বুঝতে পারবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে কি না, তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
অন্যদিকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার চিত্র আবারও ফুটে উঠেছে তেহরানে। ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ইরান সরকার আয়োজিত এক বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ সময় সরকারপন্থী বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়ান। পাশাপাশি ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।