যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে শুধু প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিই নয়, পরিবেশও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের তথ্য উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রথম ১৪ দিনেই প্রায় ৫০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়েছে। এই পরিমাণ দূষণ বিশ্বের বহু ছোট দেশের বার্ষিক নিঃসরণের চেয়েও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হামলা, তেল স্থাপনায় আগুন, ভবন ধ্বংস এবং যুদ্ধজাহাজ ও বিমান চলাচল- সব মিলিয়ে পরিবেশের ওপর এই বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
গবেষণার সহ-লেখক প্যাট্রিক বিগার বলেন, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাই পরিবেশের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেউই এ ঝুঁকি থেকে নিরাপদ নয়।
যুদ্ধের কারণে ইরানে প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে। এসব ভবনে ব্যবহৃত সিমেন্ট ও লোহা ধ্বংস হওয়ার সময় বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টন।
এ ছাড়া যুদ্ধবিমান ও সামরিক যান চলাচলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে আরও উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রথম দুই সপ্তাহেই এসব অভিযানে ১৫ থেকে ২৭ কোটি লিটার জ্বালানি পোড়ানো হয়েছে।
গত ৮ মার্চ তেহরানে একটি তেল গুদামে হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরে শহরে ‘কালো বৃষ্টি’ দেখা যায়, যা তেলমিশ্রিত ও অত্যন্ত বিষাক্ত ছিল বলে সতর্ক করে পরিবেশবিদেরা। এতে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল পুড়ে যায়, যা থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। পাশাপাশি ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান, নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও দূষণ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৫০ লাখ ৫৫ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ফ্রেড ওতু-লারবি বলেন, সংঘাত চলতে থাকলে এই নিঃসরণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে তেল স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ শুধু ভূরাজনৈতিক নয়; এর বড় মূল্য দিচ্ছে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষ।