আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে চা একটি অত্যাবশ্যকীয় রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা পান করা অনেকেই অভ্যাস। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা না খেলে যেন দিনই শুরু হয় না। তবে এই রমজানে সেটা সম্ভব না। তাই ইফতার করেই অনেকে অস্থির হয়ে থাকেন চা পানের জন্য। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ইফতারের ঠিক কতক্ষণ পর চা পান করা উচিত। এমনকি জানি না এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।
ইফতারের পর চা খাওয়া স্বাস্থ্যের কিছুটা উপকারিতা রয়েছে। চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন স্নায়ুকে শিথিল করতে এবং মানসিক সতেজতা আনতে সহায়তা করতে পারে। হালকা গরম চা হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে চায়ের সঙ্গে আদা বা পুদিনা পাতা থাকলে। এছাড়া হারবাল বা গ্রিন টি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে ইফতারের পরপর চা পান করলে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। চায়ের ট্যানিন উপাদান শরীরে আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে দুধ চা ইফতারের পরপর পান করলে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া চায়ে থাকা ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে পারে, ফলে পানিশূন্যতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইফতারের সঙ্গে বা ইফতারের ঠিক পরপর চা না খেয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর পান করা ভালো। হারবাল টি, গ্রিন টি বা আদা-লেবু চা তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প হতে পারে। আর যারা গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের দুধ চা বা স্ট্রং ব্ল্যাক টি এড়িয়ে চলাই উত্তম।
ইফতারের পরপর চা না খেয়ে কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত চা পান থেকে বিরত উচিত।