প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো প্রাচীন ‘শাহী মসজিদ’ (জামে মসজিদ) এর একাংশ ভাঙাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। ২০২৮ সালে রাজ্যটির উজ্জয়নীতে অনুষ্ঠিত হবে ‘সিংহস্থ কুম্ভমেলা’ । এই উপলক্ষে সড়ক চওড়া করার প্রশাসনিক পরিকল্পনার মুখে পড়েছে ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় উপাসনালয়টি।
নগর নিগমের কেডি গেট থেকে বীর সাভারকর মার্গ পর্যন্ত ১৫ মিটার চওড়া সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদটির সামনের প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
মসজিদটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় ওয়াকফ পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের যুক্তি তুলে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। তবে জনস্বার্থ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অজুহাতে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়ায় উদ্বেগ বাড়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে।
আদালতের আদেশের পর রবি-সোম মধ্যরাতে পৌর নিগমের টিম ভারী বুলডোজার নিয়ে শাহী মসজিদের সীমানায় পৌঁছালে শত শত স্থানীয় মানুষ উপাসনালয়টি রক্ষার তাগিদে রাজপথে নেমে আসেন।
মসজিদের সামনে সমবেত জনতা ব্যারিকেড ভেঙে প্রশাসনিক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। ঘটনাস্থলে চার কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে যেকোনও ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঐতিহ্যের ক্ষতি না করে বিকল্প নকশার দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।