আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ সহায়তা দেবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফোনালাপ হয়। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ফোনালাপে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের বিস্তার ঘটছে। দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে অপপ্রচার চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত। ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।’
ফোনালাপে তারা আসন্ন নির্বাচন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার তুর্ক গুম-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর তদন্ত এগিয়ে নিতে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ’ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগেই এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ভলকার তুর্ক। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।