পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়ার (কে-পি) বাজাউর জেলায় একটি চেকপোস্টে বোমা হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। এরপর হামলা প্রতিহত করতে পাল্টা আক্রমণ চালায় সেনাবাহিনী।
এ ঘটনায় ১১ সেনা, ১২ সন্ত্রাসী ও ১ কিশোরী নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, আইএসপিআর জানায়, ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীরা চেকপোস্টের নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা চালায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পালানোর চেষ্টা সময় সেনারা ১২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি যান চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে ধাক্কা দেয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে অবকাঠামোর কিছু অংশ ধসে পড়ে এবং এতে ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
বিস্ফোরণে আশপাশের আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে এক কিশোরী নিহত এবং নারী ও শিশুসহ আরও সাতজন আহত হন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে থাকে পাকিস্তান। আইএসপিআর জানিয়েছে, এলাকায় এখনো তল্লাশি ও স্যানিটাইজেশন অভিযান চলছে।
কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের অধীনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে, যাতে বিদেশ-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বাজাউরে ভারত-সমর্থিত ফিতনা আল-খাওয়ারিজ সন্ত্রাসীদের এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও হামলার নিন্দা জানিয়ে ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য ও এক নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ায় ১২ জন সন্ত্রাসী নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বাজাউর হামলার বিষয়টি আমলে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
এক বিবৃতিতে তিনি নিরাপত্তা সদস্য ও এক কিশোরীর শাহাদাতকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।