২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
প্রায় দুই বছর পর বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহ উত্তোলনের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া বলেন, কবর থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলনের পর চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান একটি গাড়িতে ছিলেন। চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও পরে বাগড়া বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। সেখানে গণপিটুনিতে তারা নিহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
ঘটনার সময় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানা যায়। পরে এই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
সেলিম খান ও শান্ত খানের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর সদর মডেল থানায় দায়ের করা হয়। মামলার বাদী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস সরকার। মামলায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছিল। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকিসংক্রান্ত মামলার কথাও বিভিন্ন সময়ে সংবাদে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা নিষ্পত্তির তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সেলিম খানের ছেলে শান্ত খান ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।