যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন এ তালিকায় মূলত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জারি করা পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি১/বি২) পাওয়ার যোগ্য হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে। বন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে.গভ (Pay.gov)–এর মাধ্যমে শর্তে সম্মতি জানাতে হবে।
জানা গেছে, এই উদ্যোগটি পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। তখন পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি দেশকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। নতুন করে আরও দেশ যুক্ত হওয়ায় কর্মসূচিটির পরিধি বাড়ল।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশ এ নীতির আওতায় এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কোট দিভোয়ার, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত ভঙ্গ বা নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই এই বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।