পুলিশের গবেষণায়

ঈদে সড়কে বাড়তি চাপ, দুর্ঘটনার বড় কারণ বেপরোয়া চালনা

ছবি: সংগৃহীত

উৎসবের আনন্দে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়ে ঈদের সময় সড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। আর এই চাপই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে- পুলিশের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন চিত্র। গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে বেপরোয়া গাড়ি চালানোই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

গবেষণা অনুযায়ী, দেশে সাধারণ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড়ে প্রায় ৬ জনের মৃত্যু হলেও ঈদের সময় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ১১ জনের বেশি। ২০২৩ সালে ঈদুল আজহার আগে-পরে ছয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭০ জন।

পুলিশ সদর দপ্তরের ‘রিসার্চ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগের উদ্যোগে ২০২৪ সালে পরিচালিত এই গবেষণাটি সম্পন্ন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ। এতে দেখা যায়, ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহার সময় দুর্ঘটনার হার কিছুটা বেশি হলেও দুই ঈদেই দুর্ঘটনার প্রবণতা প্রায় একই থাকে।

গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনার পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে। এছাড়া ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী সড়কের নাজুক অবস্থা, ১৯ শতাংশ ঘটে জেব্রা ক্রসিংয়ের অভাবে।

অন্যদিকে ৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটিতে, ৩ শতাংশ চালকের নেশাগ্রস্ত অবস্থার কারণে এবং ২ শতাংশ ঘটে বিভ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ফলে।

চালকদের মতে, অতিরিক্ত সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গাড়ি চালানোর ফলে ক্লান্তি তৈরি হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। গাজীপুর-আজিমপুর রুটের বাসচালক হৃদয় মিয়া বলেন, “নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা না থাকায় দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে হয়, এতে ক্লান্তি থেকে দুর্ঘটনা ঘটে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। মোট দুর্ঘটনার ২৮ শতাংশই পথচারী চাপার ঘটনা। এছাড়া এক গাড়ির পেছনে আরেক গাড়ির ধাক্কা (২৪ শতাংশ), মুখোমুখি সংঘর্ষ (১৭ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারানো (১২ শতাংশ), পাশাপাশি সংঘর্ষ (১১ শতাংশ) এবং দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার (৭ শতাংশ) ঘটনাও কম নয়।

দুর্ঘটনায় আহতদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে গবেষণায়। আহতদের মধ্যে ২১ শতাংশ আতঙ্কে ভোগেন, ১৯ শতাংশ ট্রমায় আক্রান্ত হন। এছাড়া আত্মবিশ্বাস হারান ১৭ শতাংশ, হতাশায় ভোগেন ১২ শতাংশ।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৯৮ শতাংশ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনাকে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গবেষণা বলছে, দুর্ঘটনার শিকারদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ পুরুষ, ২৫ শতাংশ নারী ও ৩৬ শতাংশ শিশু। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৯ শতাংশই ব্যবসায়ী, ১২ শতাংশ বেকার এবং ১১ শতাংশ চালক।

আয়ের দিক থেকেও ঝুঁকি বেশি নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে। দুর্ঘটনার শিকারদের ৩২ শতাংশের মাসিক আয় ৫ হাজার টাকার নিচে।

গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঈদের সময় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা।

সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দকে বিষাদমুক্ত রাখতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকেরা।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসছে তেলের জাহাজ, খুলছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপ কমাতে যে উদ্যোগ নিল সরকার

ইসরায়েলের গণহত্যা নিয়ে কথা বলে সিনেমা থেকে বাদ পড়েন এই অভিনেত্রী

পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরায় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুক্তির ১ মাস পর ‘প্রিন্স’ সিনেমার সেন্সর স্থগিত করল সার্টিফিকেশন বোর্ড

গুরুতর অভিযোগে এবার আইনি বিপাকে গায়ক পলাশ

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

বাংলাদেশ সফরের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের সিরিজ, সূচি ঘোষণা

সৌদি আরব থেকে এলো এক লাখ টন তেল, বিকেলে চালু হচ্ছে ইস্টার্ণ রিফাইনারি

কবরের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেলিনা জেটলি

১০

গার্মেন্টসে চাকরির সঞ্চয়ে ১৪ শতক জমিতে গড়েছেন শখের আঙুর বাগান

১১

১৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

১২