রাঙামাটিতে দেড় দশকে ১৩ হাতির মৃত্যু, প্রাণ গেছে ৩৬ জনের

ছবি: সংগৃহীত

আবাসস্থল ধ্বংস, তীব্র খাদ্য সংকট ও মানুষের সঙ্গে ক্রমাগত সংঘাতের মুখে পড়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এশীয় মহাবিপন্ন প্রজাতি বন্য হাতি। কাপ্তাই, লংগদু ও বরকলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাতির চলাচলের প্রাচীন করিডোরগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বারবার লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতির দল। ফলে পাহাড়ি এলাকায় মানুষ ও হাতির সংঘাত এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড় ও বিদ্যুতায়িত ফাঁদের কারণে গত দেড় দশকে রাঙামাটির পাহাড়ে অন্তত ১৩টি হাতির করুণ মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে কেবল গত ১০ বছরেই প্রাণ গেছে ৮ থেকে ১০টি হাতির। অন্যদিকে, এই একই সময়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ জন মানুষ।

বর্তমানে পুরো রাঙামাটিতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি হাতি অবশিষ্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের হিসাব মতে, কাপ্তাই অঞ্চলে প্রায় ৩৬টি হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ জানায়, লংগদু ও বরকল এলাকায় ১২ থেকে ১৫টি হাতি সক্রিয় রয়েছে, যার বড় অংশটি অবস্থান করছে লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায়।

কেন এই অস্তিত্ব সংকটে বন্য হাতির?

পাহাড়ে মানুষের কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত দ্বিগুণ রূপ নিয়েছে। পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন ও অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপনের কারণে হাতির বংশ পরম্পরায় ব্যবহৃত চলাচলের পথ। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল উজাড় ও সেগুন বা ইউক্যালিপটাসের মতো কৃত্রিম বনায়নের কারণে হাতির খাবারের প্রধান উৎস নিঃশেষ হয়ে আসছে। শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সন্ধানে বুনো হাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করছে। খাবারের খোঁজে হাতির দল ফসলি জমি ও লোকালয়ে হানা দিলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ফসল ও জীবন বাঁচাতে হাতির ওপর আক্রমণ চালায়, যা উভয় পক্ষের জন্যই করুণ পরিণতি ডেকে আনে।

পরিবেশবাদীদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এশীয় হাতি সংরক্ষণ জরুরি। দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাঙামাটির পাহাড় থেকে এই প্রাণীটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুপ্রিয় চাকমা বলেন, ‘হাতির প্রাকৃতিক আবাসে যেভাবে বন উজাড় করে বাগান, সড়ক ও বসতবাড়ি তৈরি হচ্ছে, তাতে দ্রুতই হাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। হাতির খাদ্য ও চলাচলের পথ সুরক্ষায় গুরুত্ব না দিলে এই প্রাণীকে বাঁচানো অসম্ভব।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, কাপ্তাই এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সোলার ফেন্সিং (বিদ্যুতায়িত বেড়া) স্থাপনের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি হাতির খাদ্যাভাব মেটাতে তাদের পছন্দের গাছ লাগানো হচ্ছে এবং লোকালয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কেউ হাতির ওপর আক্রমণ না করে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

রাঙামাটিতে দেড় দশকে ১৩ হাতির মৃত্যু, প্রাণ গেছে ৩৬ জনের

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ২৫৪, ধ্বংসস্তূপে চলছে জীবিতদের সন্ধান

মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

কিছুক্ষণ পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অনিশ্চয়তায় বাড়ছে তেলের দাম

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো ঠিক হয়নি : চিফ হুইপ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশ: বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

অপু বিশ্বাসসহ তিন দেশের শিল্পী নিয়ে ‘শিকার’ শুরু

১০

‘জোর করে কি ফলাফল খারাপ করানো যায়, জোর করে কি পাস করানো যায়’

১১

ভারতের ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ

১২