মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। দলটির হয়ে বলতে গেলে একাই লড়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বেশিরভাগ ফুটবলারই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। মরক্কোর বিপক্ষে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির খেলোয়াড়রা কে কেমন করেছেন সেটি রেটিং আকারে প্রকাশ করেছে বিবিসি।
ম্যাচসেরা: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রেটিং: ৭.৯৪)
জাতীয় দলের হয়ে ঠিক যেটা তার কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়, সেটাই করেছেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধে যখন ব্রাজিল ছিল স্নায়ুচাপে এবং ছন্দহীন, তখন তিনিই দায়িত্ব তুলে নেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণে আক্রমণ চালিয়ে দারুণ এক গোল করেন। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলকভাবে খারাপ খেলেছেন তিনি।
রাফিনিয়া (৬.৪৩)
ব্রাজিলের আক্রমণে বিভিন্ন পজিশনে খেলেছেন। শুরুতে বাম প্রান্তে থাকলেও পরে ডান দিকে যান এবং বদলির পর আরও মূল ভূমিকায় খেলেন। পাস ও বল নিয়ন্ত্রণে একাধিক ভুল করেন। ৩২ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পেলেও ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। প্রচুর দৌড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখলেও সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক পারফরম্যান্স।
ম্যাথেউস কুনিয়া (৫.৯২)
৯ নম্বর জার্সি পরলেও প্রচলিত স্ট্রাইকারের ভূমিকায় ছিলেন না; বরং বাম দিক থেকে খেলেছেন। ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে চমৎকার একটি পাস দেন, যা থেকে বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি হয়। রক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
ব্রুনো গিমারায়েস (৫.৮৮)
ম্যাচের শুরুতেই বিপজ্জনক একটি শট ব্লক করেন। কিছু ভুল করলেও বেশ কয়েকটি ভালো পাস খেলেন এবং ভিনিসিয়ুসের গোলে অ্যাসিস্ট করেন। দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়ার জন্য দারুণ একটি ক্রস তুলেছিলেন, কিন্তু তা কাজে লাগেনি। শেষ দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় বদলি হন।
মারকিনিয়োস (৫.৭৭)
রক্ষণভাগের সমস্যার মাঝেও অধিনায়কের পারফরম্যান্স মোটামুটি ভালো ছিল। ৭৯টির মধ্যে ৭৫টি পাস সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
লুকাস পাকেতা (৫.৬৮)
শুরুতে বেশ কিছু ভুল পাস করেন, যার কিছু ছিল নিজেদের জন্য বিপজ্জনক। পরে ধীরে ধীরে খেলায় ফেরেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুন্দর এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভলি শট নেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্রুত থ্রো-ইন নিয়ে সুযোগ তৈরি করেন। পরে বদলি হন।
অ্যালিসন বেকার (৫.৬৩)
মরক্কোর গোলের সময় কিছুটা ধীরগতির মনে হয়েছে অ্যালিসনকে। যদিও একমাত্র তাকেই দোষ দেয়া যায় না। ম্যাচের শেষ দিকে দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
ফাবিনিও (৫.৬০)
ব্রাজিলের বক্সের সামনে ভালো কভার দিয়েছেন। বল পায়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পাসেই মনোযোগ রেখেছেন।
গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (৫.৩৫)
মরক্কোর গোলের সময় সঠিক অবস্থানে ছিলেন না এবং গতিও ছিল ধীর। পরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে উন্নতি করেন। ৮৫টির মধ্যে ৮২টি পাস সফল।
দানিলো সান্তোস (৫.৩৫)
শেষদিকে মাঠে নেমে মাঝমাঠে গতি যোগ করেন। যোগ করা সময়ে ভালো একটি সুযোগ পেলেও গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন।
লুইজ হেনরিক (৫.৩৪)
মাঠে নেমে ডান প্রান্তের আক্রমণে গতি আনেন। অতিরিক্ত সময়ে রাফিনিয়াকে একটি চমৎকার পাস দেন এবং পরে দানিলো সান্তোসের জন্যও সুযোগ তৈরি করেন। তবে সবমিলিয়ে পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
দানিলো (৫.১৯)
ইবানিয়েসের তুলনায় রক্ষণে বেশি স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছেন তিনি। কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও ক্রসগুলো খুব কার্যকর ছিল না।
ডগলাস সান্তোস (৫.১৭)
মরক্কোর সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগ সামলাতে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং বড় কোনো ভুল করেননি। ৮৯ শতাংশ পাস সফল হলেও আক্রমণে খুব কমই এগিয়েছেন।
রজার ইবানিয়েস (৪.৮৩)
শুরু থেকেই তাড়াহুড়ো করে খেলেছেন এবং পাসে ভুল করেছেন। মার্কিংয়েও ছিলেন অগোছালো। ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মাথায় মাজরাউই সহজেই তাকে কাটিয়ে যান, যা থেকে প্রায় গোল হয়েই যাচ্ছিল। হলুদ কার্ড পাওয়ার পর বিরতিতে তাকে তুলে নেয়া হয়।
ইগর থিয়াগো (৪.৭১)
১৩ মিনিটে দুর্দান্ত সুযোগ পেলেও শট ঠিকমতো নিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একমাত্র শটটি সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে যায়। পরিশ্রম করলেও আক্রমণে কার্যকর অবদান রাখতে ব্যর্থ হন।
কাসেমিরো (৪.৬৪)
নিজের সামর্থ্যের অনেক কম খেলেছেন। বল দখলে অকার্যকর ছিলেন এবং রক্ষণেও ফাঁকা জায়গা ছেড়েছেন। কাউন্টার আক্রমণ ঠেকাতে হলুদ কার্ড দেখেন এবং বিরতির পর আর মাঠে ফেরেননি।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি (রেটিং: ৫.০)
শুরুর একাদশে ইবানিয়েস, ডগলাস সান্তোস ও ইগর থিয়াগোকে রেখে কিছুটা চমক দেখিয়েছিলেন ইতালিয়ান কোচ। কিন্তু প্রথমার্ধে ব্রাজিল ছিল অত্যন্ত দুর্বল; রক্ষণে প্রচুর জায়গা ছেড়ে দেয় এবং আক্রমণেও সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খায়।
বিরতির পর হলুদ কার্ড পাওয়া কাসেমিরো ও ইবানিয়েসকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং এতে দলের খেলায় উন্নতি আসে। তবে রাফিনিয়ার বদলে এন্দ্রিককে নামানো যেত বলে মনে করেন অনেকেই। ইতালিয়ান কোচের অধীনে ১৩ ম্যাচ পার হলেও ব্রাজিল এখনো রক্ষণে ভঙ্গুর এবং আক্রমণের সেরা সমন্বয় খুঁজে পায়নি।