রাজধানীর পুরানা পল্টনে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫ নেতাকর্মীকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিরাজুল ইসলাম গ্রেপ্তার আসামিদের প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টস গলির মুখে সড়কের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী সমবেত হন। এ সময় তারা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সমবেত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়া এবং নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামিদের শনাক্ত করা, নাশকতায় অর্থ জোগানদাতাদের খুঁজে বের করা, নাশকতায় ব্যবহারের জন্য রাখা অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
একই ঘটনায় করা মামলার এজাহারে ১৬ থেকে ১৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা শিশুদের আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পল্টন মডেল থানায় করা মামলাটিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশোধিত ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।