নিকন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬–এ একমাত্র বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনসিন’

 

প্যারিস প্রবাসী বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের জন্য নিকন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬–এর প্রতিযোগিতা বিভাগে তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আনসিন (UNSEEN) এর অফিসিয়াল সিলেকশন কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয় — এটি বহু বছরের অধ্যবসায়, সীমান্ত পেরোনো সহযোগিতা এবং গল্প বলার নীরব সাধনার এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া ছয় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে ১৬তম নিকন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আনসিন  অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে। এ বছর নির্বাচিত তালিকায় এটি একমাত্র বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বর্তমানে উৎসবটির অনলাইন পাবলিক ভোটিং পর্ব চলছে, যা আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ সাহিল বলেন,“এই নির্বাচনটিই আমাদের জন্য বড় অর্জন। এমন একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা এবং এ বছর দেশের একমাত্র নির্বাচিত চলচ্চিত্র হওয়া আমার জন্য ভীষণ সম্মানের।”

এ বছরের নিকন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের বিষয় ছিলো ‘বিউটি’ বা ‘সৌন্দর্য’। তবে সাহিল ও তার টিম এই ধারণাটিকে চাক্ষুষ সৌন্দর্যের গণ্ডিতে না বেঁধে মানবিক ও আবেগী দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন,“সৌন্দর্যকে আমরা অনেক সময় শুধু দেখার বিষয় হিসেবে ভাবি। আনসিন  এর মাধ্যমে আমরা সেই সৌন্দর্যকে খুঁজতে চেয়েছি, যা দৃশ্যমান নয় — যে অনুভূতি গুলো আমরা উপেক্ষা করি, যেসব মানুষকে আমরা সত্যিকার অর্থে দেখতে পাই না।”

প্যারিসে নির্মিত আনসিন  চলচ্চিত্রটির সংলাপ পুরোপুরি ফরাসি ভাষায়। তবে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কথা বিবেচনা করে এতে ইংরেজি সাবটাইটেল সংযুক্ত করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছেন সাবরিনা ইসলাম। এতে অভিনয় করেছেন ফরাসি অভিনেতা জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েট পিরোত্তে ও এলিজাবেথ সেলেম। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন প্যারিস প্রবাসী বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি, যার উপস্থিতিকে সাহিল চলচ্চিত্রটির জন্য “আবেগগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

সাহিল বলেন,“ইমতিয়াজের সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য এক ধরনের পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ফরাসি অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার ফলে গল্পটি খুব স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়েছে।”

চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পার্বত রায়হান এবং সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন নিশান মাহমুদ। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও, চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ কলাকুশলী ছিলেন বাংলাদেশি — যা পুরো টিমের জন্য গর্বের বিষয় বলে জানান সাহিল।

তার ভাষায়,“প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভাষা ভিন্ন হলেও এই চলচ্চিত্র আমাদের পরিচয় বহন করে।”

বর্তমানে পাবলিক ভোটিং পর্বে প্রতিযোগিতা করছে আনসিন ।  এ বিষয়ে সাহিল বলেন, দর্শকদের প্রতিটি ভোট তার জন্য গভীর আবেগের সঙ্গে জড়িত।

“প্রতিটি ভোট আমাদের নতুন করে আশা জোগায়,” বলেন তিনি।“এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ আমাদের গল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে, আমাদের কাজ দেখছে।”

পরবর্তী ধাপে নির্বাচিত হলে চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ৫০ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। সাহিলের বিশ্বাস, এটি কেবল তার নয়, বরং বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি নির্মাতাদের জন্যও নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।

তিনি আরও বলেন,“আমি চাই, এটি বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতাদের অনুপ্রেরণা দিক যাতে তারা বিশ্বাস করে, তাদের গল্পও বৈশ্বিক মঞ্চে জায়গা পাওয়ার যোগ্য।”

দর্শকদের আনসিন  চলচ্চিত্রটি দেখার পাশাপাশি অনলাইন ভোটিংয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভোট দেওয়ার লিংক সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুলোতে প্রকাশ করা হয়েছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রদান

পুলিশে বড় রদবদল: ১২ জেলার পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলি

নির্বাচনে হারিনি, আমি পদত্যাগ করব না: মমতা

চার দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৫৯৭ কোটি টাকা

শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দাবি হেফাজতের

হাম ও উপসর্গে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু

এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চেষ্টা করব: মির্জা ফখরুল

খালি পেটে চা-কফি নাকি পানি, কোনটি পান করা যাবে?

হজে গিয়ে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু

নতুন সাইবার প্রতারণা ‘এসএমএস পাম্পিং’

১০

১০ কবি-লেখক পাচ্ছেন এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার

১১

দেশে কোথাও লোডশেডিং নেই, দাবি মন্ত্রীর

১২