ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিনের মাথায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
নতুন সরকারে কে কোন মন্ত্রণালয় পাবেন, তা বিস্তারিত জানা যাবে সন্ধ্যার পর। তবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলাবেন সালাহউদ্দিন আহমদ; অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; খন্দকার মোশাররফ পাচ্ছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিমানমন্ত্রী হবেন অনিন্দ ইসলাম অমিত; শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে আসছেন এহসানুল হক মিলন।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টু; জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান টুকু; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস দায়িত্বে আসছেন।
এর বাইরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অ্যানি, আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং আসাদুজ্জামানেরও ডাক পড়বে মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভায় আরও ডাক পাচ্ছেন যারা, তারা হলো- হুমায়ুন কবির, নুরুল হক নূর, আমিনুল হক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মেয়র আরিফুল হক, দীপেন দেওয়ান, মীর শাহে আলম, কিশোরগঞ্জের মো. শরিফুল আলম, আব্দুস সালাম পিন্টু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, ফরহাদ হোসেন আজাদ, ববি হাজ্জাজ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বেলা পৌনে ১১টার দিকে শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
অপরদিকে, আলাদা আলাদা সময়ে জামায়াত, এনসিপি ও স্বতন্ত্র এমপিরাও শপথ নেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া এনসিপি শাপলা কলি প্রতীকে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীকে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।