আসন্ন টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশ যাবে না-এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে দেশটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে দুই দফা চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ম্যাচ কেবল ভারতের ভেতরে ভেন্যু বদলের আলোচনা ওঠায় সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন-বাংলাদেশ কখনোই কলকাতা থেকে অন্য ভারতীয় শহরে ম্যাচ সরানোর কথা বলেনি। তাদের দাবি একটাই: ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা বা ভারতের বাইরে অন্য কোনো নিরাপদ ভেন্যুতে আয়োজন করতে হবে।
আমরা মনে করি, ক্রিকেটের ওপর কারও খবরদারি থাকা উচিত নয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে কোনো টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে না।
বিসিবি ইতোমধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারতের বাইরে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। তবে আইসিসি এই আবেদন নাকচ করে ভারতের ভেতরেই চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, চেন্নাই বা তিরুবনন্তপুরম তো ভারতেই। আমাদের কথা পরিষ্কার—ভারতের কোনো জায়গাতেই এখন খেলার পরিবেশ নেই। যদি ভেন্যু বদলাতেই হয়, তবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা আরব আমিরাতে করা হোক, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আইসিসি যদি সত্যিই একটি বৈশ্বিক সংস্থা হয়ে থাকে এবং ভারতের কথায় পরিচালিত না হয়, তবে তারা বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
জানা গেছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই বিসিবির এই আবেদনের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে পারে আইসিসি। এ ছাড়া আইসিসি থেকে পাঠানো নিরাপত্তার ঘাটতি-সংক্রান্ত একটি চিঠির কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা শিগগিরই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের পরামর্শে রিলিজ দেওয়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণে সেখানে যেতে নারাজ বাংলাদেশ দল। এদিকে, বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র চার সপ্তাহের কম সময় বাকি আছে।