প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গৃহবন্দি করা হয়েছে। দেশটির ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনোর পতনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আর্থিক সংকট ও ব্যাপক জনবিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পেনিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করার পক্ষে সিনেটের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন ভোট দেন। একজন সদস্য ভোটের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্ষমতাসীন কলোরাডো পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ভোটের কয়েক মিনিট পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পেনিয়া। তবে তার প্রস্তাব গ্রহণ না করে অভিশংসন ও অসদাচরণের অভিযোগে বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় আইনসভা। অভিশংসনের ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার আজীবন সিনেট সদস্যপদ ও দায়মুক্তির সুবিধাও হারানোর কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উয়েনো ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মালিকানা গত বছর পর্যন্ত পেনিয়ার হাতে ছিল। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
ব্যাংকটির পতনের পর দেশজুড়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনো ব্যাংক জব্দ করার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক নিজেদের সঞ্চয় ও পেনশনের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ। এই বিপুলসংখ্যক আমানতকারীর অর্থ আটকে যাওয়ায় রাজধানী আসুনসিওনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন।
পেনিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তিনি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন, পেনশন তহবিলের অর্থ অন্য খাতে সরিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।
সরকারি কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গনজালেজ ভেস্টার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায় এবং তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার পেনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। সিনেটের প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে পেনিয়া ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর আলিয়ানা বলেন, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট আলিয়ানার বিরুদ্ধেও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে ক্ষমতাসীন কলোরাডো পার্টি।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেনিয়া নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণ তার ওপর যে আস্থা রেখেছিল, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই তার উদ্দেশ্য ছিল না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নির্বাচনে রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন পেনিয়া। ওই নির্বাচনে তিনি মধ্য-বামপন্থী এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন।
অন্যদিকে, উয়েনো ব্যাংকের পতনের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগের পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে কংগ্রেস। তবে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আটকে থাকা অর্থ কবে নাগাদ ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।