বিখ্যাত সেই হাটে এখনও পাওয়া যাচ্ছে ৬ জাতের আম, দাম কত?

আমের মৌসুম শেষ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানসাট আম বাজারে কমেনি ব্যস্ততা। মৌসুমি আমের সরবরাহ কমে এলেও নাবি ও বারোমাসি জাতের আমে এখনও জমজমাট জেলার বৃহত্তম এই বাজার। আশ্বিনা, বারি-৪, গৌড়মতি, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও খিরসাপাত আম নিয়ে প্রতিদিনই বাজারে আসছেন চাষিরা। চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

বর্তমানে কানসাট বাজারে আশ্বিনা আম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০, বারি-৪ ১৫০ থেকে ১৮০, গৌড়মতি ১৬০ থেকে ১৮০, কাটিমন ১৭০ থেকে ১৮০ ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মণ হিসেবে কিনলে দাম কিছুটা কম পড়ছে।

মৌসুম শেষের এই ব্যস্ততার মধ্যেই চাষিদের সামনে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে অসময়ে খিরসাপাত বা হিমসাগর আম উৎপাদন। সাধারণত মে মাসে বাজারে আসা জিআই স্বীকৃত এই আম এবার আগস্ট মাসেও গাছে ধরিয়ে পরীক্ষামূলক সাফল্য পেয়েছেন শিবগঞ্জের কয়েকজন চাষি। অসময়ের খিরসাপাত দেখে অনেক চাষির মধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

শিবগঞ্জের কয়েকটি বাগানে এখনও গাছে ঝুলছে খিরসাপাত। ভোক্তাদের কাছে এই আমের চাহিদা থাকায় বাগান থেকেই প্রতি মণ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা।

শিবগঞ্জ উপজেলার আড়গাড়া গ্রামের আমচাষি গোলাম মোস্তফা তাদের একজন। তিনি জানান, আগে মৌসুমি আম চাষ করলেও প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছিলেন না। পরে কাটিমন ও গৌড়মতি আমের চাষ শুরু করেন। একই সঙ্গে মৌসুমি খিরসাপাতের গাছের জাত পরিবর্তনের জন্য কাটিমন আমের ডাল গ্রাফটিং করেন।

গ্রাফটিংয়ের পর তিনি দেখতে পান, কলম করা ডালে কাটিমন আম ধরলেও পুরোনো গাছের অংশে মুকুল এসেছে। সেই মুকুলের পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়ার পর মৌসুমের বাইরে সেখানে খিরসাপাত আম ধরে। বর্তমানে সেই আম প্রায় ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন তিনি।

গোলাম মোস্তফা বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার অসময়ের খিরসাপাত আম বিক্রি করেছেন। আরও দুই সপ্তাহ পর শেষ দফার আম নিয়ে বাজারে আসবেন।

ডাল গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে একই গাছে পুরোনো অংশে খিরসাপাত এবং কলম করা ডালে কাটিমন আম পাওয়ার ঘটনাকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন চাষি গোলাম মোস্তফা। তবে পদ্ধতিটি এখনও পরীক্ষামূলক। বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া গেলে আম চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, খিরসাপাত আমের দেশি-বিদেশি চাহিদা রয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আম বাজারে আসায় চাষিরা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। অসময়ে খিরসাপাত উৎপাদনের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এভাবে মৌসুমের বাইরে খিরসাপাত ধরানোর ঘটনা আগে তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করবেন।

এদিকে কানসাট আম বাজারে নাবি জাতের আমের ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরাও। কাটিমন আম নিয়ে বাজারে আসা চাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শেষ মুহূর্তে কাটিমন ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় এ দাম সন্তোষজনক।

ব্যানানা ম্যাঙ্গো নিয়ে বাজারে আসা চাষি আবদুস সালাম বলেন, প্রতি মণ বারি-৪ আম প্রায় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা এবং ব্যানানা ম্যাঙ্গো প্রায় ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মৌসুমের শেষে প্রত্যাশিত দাম পাওয়ায় চাষিরা সন্তুষ্ট।

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নাবি জাতের আম নিয়ে প্রতিদিন কানসাট বাজারে আসছেন চাষিরা। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে ব্যস্ত হয়ে উঠছে বাজারের আড়তগুলো। সাধারণত আমের দামে প্রতিদিনই কিছুটা ওঠানামা থাকলেও নাবি জাতের আমের ভালো দাম থাকায় বাজারে রয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

ঢাকা থেকে খিরসাপাত আম কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের বাইরে খিরসাপাত আম উৎপাদনের পরীক্ষামূলক সাফল্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এভাবে সারা বছর বিভিন্ন জাতের আম বাজারে পাওয়া গেলে ক্রেতাদের জন্যও তা আকর্ষণীয় হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। মৌসুম শেষের দিকে এসেও নাবি জাতের আমের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু কয়েক মাসের মৌসুমি বাজারের ওপর নির্ভর না করে নাবি জাতের আমের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানির সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। আর অসময়ে খিরসাপাত উৎপাদনের পরীক্ষামূলক সাফল্য বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে বাণিজ্যিকভাবে সফল করা গেলে আমচাষিদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ

সালমান শাহ: একজন সিনে জগতের ‘টাইম ট্রাভেলার’

দুই বছরেও শুরু হয়নি তোফাজ্জল হত্যার বিচার, এখনো ১৭ আসামি পলাতক

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

বিখ্যাত সেই হাটে এখনও পাওয়া যাচ্ছে ৬ জাতের আম, দাম কত?

ট্রাম্পের কব্জায় গ্রিনল্যান্ড, কী আছে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক চুক্তিতে?

ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

মা প্রবাসে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় সন্তানসহ বাবার বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

'আট দফা' থেকে 'এক দফা' - শফিকুর রহমানের হুশিয়ারি

১০

দূরের যুদ্ধের’ খেসারত দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটি মানুষ

১১

জামায়াতকে প্রগতিশীল ইসলামিক দলে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখতেন রাজ্জাক, এ বই তারই বহিঃপ্রকাশ

১২