যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ১৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর দেশটিতে এটিই হামে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে ১৮ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। আর ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী আক্রান্তের হার ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় ৫৯ শতাংশই শিশু ও কিশোর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ টিকাদানের হার কমে যাওয়া। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে দেশটির কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে হামের টিকা নেওয়ার হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল।
তবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিডিসির জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় হিসাবের পার্থক্য রয়েছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়া। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে এ বছর ১ হাজার ৪৮৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হামে মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেননা পেনসিলভানিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, কারও শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যু হলে এবং মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ না পাওয়া গেলে সেটিকে হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত আগস্টে পেনসিলভানিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, টিকা না নেওয়া দুজন ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সিডিসি শুরুতে ওই দুই মৃত্যুকে জাতীয় হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করলেও পরে তা বাদ দেয়। হামে তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল কি না, তা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনেডি প্রশ্ন তোলার পর এ সিদ্ধান্ত আসে। যদিও দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে আবারও রোগটির বিস্তার বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে অনীহা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কোনো এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে সেখানে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়।
তাঁরা সতর্ক করে বলছেন, হাম শুধু স্থানীয় বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের সমস্যা নয়। একটি এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে হাজার হাজার মাইল দূরের মানুষও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই এই রোগ প্রতিরোধে টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।