শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিতের প্রতিবাদে ও অনতিবিলম্বে নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আদালতের আদেশের মাধ্যমে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের আগেই শাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় তারা, ‘হারার ভয়ে খেলে না, এই কথাতো বলে না’, ‘শাকসু বানচালের অপচেষ্টা, মানি না মানব না’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হাসিনাকে দেয়া ৯ দফার অন্যতম একটি ছিল ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্রসংসদ চালু করা। হাসিনা পালিয়েছে, তবে ছাত্রদল ও বিএনপি ছাত্রসংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। রাকসুর সময়ও তারা একের পর এক চারবার নির্বাচন স্থগিত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ শাকসু নির্বাচনের কথা ছিল, তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী টোকাই বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের সাহায্যে নির্বাচন কমিশনের সামনে মব সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করে দিয়েছে।
তারেক রহমান কোর্টকে হাসিনার ন্যায় ব্যবহার করে শাকসু নির্বাচন বন্ধ করেছেন। দ্বিতীয় স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে মানুষ যে ভোটাধিকার পেয়েছে, তার বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান করলে বাংলার মানুষ ও ছাত্রসমাজ আবার জেগে উঠবে।
রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ও রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, তারা বারবার নির্বাচনের পরও হেরে যায়। তারা ইতোমধ্যে অনেক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।
জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের চাওয়ার বিরুদ্ধে যদি কেউ কিছু করতে চায়, তাহলে সেটা শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করবে না। এটার প্রতিফলন ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোয় দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করতে চায় এবং শাকসু যারা চেয়েছিল, এর জন্য একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার মানে যারা শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করতে চায়, তাদেরকে বহিষ্কার করে আপনারা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ছাত্রদল শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করার জন্য না।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি ও হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতিরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।