রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও পদ ছাড়ার পর আগের বা পরের যেকোনো অসদাচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে তিনি আইনগত কিছু বিষয়ের মুখোমুখি হবেন না। তবে পদে না থাকলে রাষ্ট্রপতির আগের কিংবা পরবর্তী সময়ের যেকোনো অসদাচরণের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি খাবার ও পানিতে পাওয়া যাচ্ছে। টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জ্বালানি খাতের বিষয়ে তিনি জানান, স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং চতুর্থ এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়, পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্রিকসের সদস্য হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
চিত্রনায়িকা ইসরাত জাহান ওরফে স্নিগ্ধা চৌধুরীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে কোনো প্রতিমন্ত্রী বা অন্য কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ঠিক নয়।
সম্প্রতি কয়েকজন জেলা প্রশাসককে অবসরে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার কখনো বলেনি যে 'রাতের ভোটের ডিসিদের' অপসারণ করা হয়েছে। চাকরিবিধি অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই অবসরে পাঠানোর বিধান রয়েছে এবং সেই বিধান অনুসারেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর দেশ চরম ধ্বংসের দিকে গেছে। শুধু ২০১৮ নয়, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিচার না হলে তা দেশের জন্য ভালো হবে না।
জুলাই আন্দোলনে ব্যবহৃত ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের ব্যবহৃত টাইপ-৫৬ রাইফেলের গুলিই ৭.৬২ মিলিমিটারের। এটিকে স্নাইপারের গুলি বলে প্রচার করা সঠিক নয়। আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও জানান, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে।