ফয়জুল করিমের আসনে সরে দাঁড়াল জামায়াত

ছবি : সংগৃহীত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের নির্বাচনী আসন বরিশাল-৫ (সদর-সিটি) থেকে সরে দাঁড়াল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। 

দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার মনোনয়নপত্র রিটা‌র্নিং কর্মকর্তার কা‌ছে গি‌য়ে প্রত্যাহার করে নেন।

এর ফলে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে থাকছেন। এর আগে দশ দলীয় জোটের শরিক এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূইয়া ওরফে ফুয়াদকে সমর্থন জানিয়ে বরিশাল-৩ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি।

জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

গত ১৮ জানুয়ারি ফয়জুল করিমের আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলটির প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সৌজন্যতার খাতিরেই ফয়জুল করিমের আসনে প্রার্থী না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তখন জানানো হয়।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সৌজন্যতার জায়গা থেকে ফয়জুল করিমের আসনে আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি।’

বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সরে যাওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফয়জুল করিমের সঙ্গে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা, চারবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফয়জুল করিম একই সঙ্গে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মো. মাহমুদুন্নবী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার আলোচনা চলছিল। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল প্রায় এক বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই জোটে যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সব মিলিয়ে জোটের শরিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১-এ।

তবে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত জোটে না গিয়ে আলাদা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী আন্দোলন।

সেই প্রেক্ষিতেই সৌজন্যতার বার্তা হিসেবে ফয়জুল করিমের একটি আসনে প্রার্থী না রাখার পথে হাঁটল জামায়াতে ইসলামী। 

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল সদর আসনে ফয়জুল করিমের ভোটভিত্তি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। 

২০০১ সালে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০০৮ সালেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রায় একই হারে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। 

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামানত হারান। পরে ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় ৩৪ হাজার ভোট পেলেও জয় থেকে বেশ পিছিয়ে ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও বরিশাল সদর আসনে শক্ত নির্বাচনী অবস্থানের নজির নেই। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থী পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো ভোট। 

১৯৯৬ সালেও ভোটসংখ্যা চার হাজারের ঘরে ছিল। এরপর এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত আর সরাসরি প্রার্থী দেয়নি।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রোজার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

উপদেষ্টা পরিষদে নতুন ৪ থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন

সিরাজগঞ্জে আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

ফয়জুল করিমের আসনে সরে দাঁড়াল জামায়াত

যাদের ৩ ভোটও নেই, এরা বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না : মির্জা ফখরুল

ঢাকায় দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসি

‘অযৌক্তিক চাপেও বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না’

আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ল ৪০০ ঘর

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় পেছাল

১০

পোস্টাল ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ

১১

চানখারপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায় আজ

১২