বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আর নির্বাচনের আগে জনগণকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নাম্বার সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি পথসভায় এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এরপর তারেক রহমান ঢাকা-১৪ আসনের দলের প্রার্থী সায়েদুল ইসলাম তুলির সমর্থনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, শ্যামলী ক্লাব মাঠ ও বাড্ডা সাতারকুল সানভ্যালিতে পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।
এর আগে নিজ সংসদীয় আসন ঢাকা-১৭ এলাকার ইসিবি চত্বর থেকে পথসভা শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর পল্লবীতে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হকের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব। এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি যা ইহজগতে সম্ভব নয়।
বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করেছি আমরা এই দেশের নারী বা মা-বোনদের জন্য কি করতে চাই, ছাত্র সমাজের জন্য কি করতে চাই, লাখো কোটি বেকার মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে করব এবং কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য প্রতিটি ঘরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে।
ঢাকা-১৫ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার জন্য এখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছেন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।