কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে ছুটিব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে চীন। এ লক্ষ্যে বেতনসহ ছুটি ও ছুটি ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের কর্মপরিকল্পনায়।
সাম্প্রতিক ঘোষিত পরিকল্পনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে বা ‘স্ট্যাগার্ড পেইড লিভ’ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে বছরের বিভিন্ন সময়ে ছুটি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
গত কয়েক বছরে চীনের ছুটি নীতি ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৪ সালের পরিকল্পনায় বেতনসহ ছুটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ছুটির মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হয়। আর ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ধাপে ধাপে ছুটি নেওয়ার ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে নির্দিষ্ট ছুটির মৌসুমে অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং সারা বছরজুড়ে পর্যটন ও ভোগব্যয় ছড়িয়ে পড়বে। এতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি মানুষের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও উন্নত হবে।
এনপিসির এক সদস্য গর্ডন ল্যাম বলেন, একসঙ্গে সবার ছুটি না হলে ভোগব্যয়ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ফলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষার্থীদের জন্য মৌসুমি ছুটি চালুর প্রস্তাব পরিবারভিত্তিক ভ্রমণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিচুয়ান অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া শরৎকালীন ছুটিতে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে এই নীতি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা ছুটি পেলেও অভিভাবকেরা একই সময়ে ছুটি না পেলে পারিবারিক ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।
এ ছাড়া নতুন ছুটিব্যবস্থা কার্যকর করতে কর্মীদের চাহিদা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকেরা। প্রস্তাব রয়েছে—যেসব প্রতিষ্ঠান ছুটিনীতির যথাযথ বাস্তবায়ন করবে, তাদের জন্য কর–সুবিধা বা অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, জীবনমান উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ছুটিব্যবস্থায় এই সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।