যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির খবর প্রকাশের পরপরই স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শান্তিচুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে, এই প্রত্যাশায় তেলের দাম কমে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এতে করে মূল্যবান ধাতুর বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩২২ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসও ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রত্যাশার ফলে তেলের দাম কমেছে এবং ডলার দুর্বল হয়েছে। এতে করে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এ প্রবণতা কতটা স্থায়ী হবে, তা মূলত শান্তিচুক্তির স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩২৪ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।