কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৩০০ জন ও নওগাঁর পোরশা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। অন্যদিকে, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৩০০ ভারতীয় নাগরিককে গাড়িতে করে এনে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গত রোববার রাত ১২টার দিকে বকবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিজিবি ৩৫ জামালপুর ব্যাটালিয়নের অধীন রৌমারীর বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, রোববার রাত ১২টার দিকে বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিককে বকবান্ধা সীমান্তে এনে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। টের পেয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসী প্রতিহত করার জন্য অবস্থান নেয়।
এদিকে, নওগাঁর পোরশা সীমান্তে ২০ ব্যক্তিকে গত রোববার রাতে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় বিজিবি পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন।
পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা নারী, শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। গত রোববার রাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। গতকাল সোমবার নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তখন থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, তিন নারী ও দুটি শিশু ছিল।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় দুদিন ধরে অবস্থান করা ১১ জনকে গতকাল ভোরে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শনিবার ভোরে উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই
চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় ছিল।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তবর্তী ১১ জেলায় আনসার সদস্য মোতায়েন
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায় উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি/টিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো– চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়ি।