টানা ১৪ দিন ডিম খেলেই শরীরে যে ৩টি বড় পরিবর্তন দেখতে পারেন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের খাবারের টেবিলে ডিম যেন এক চিরচেনা সঙ্গী। সকালে ভাজি, দুপুরে ডিমের ঝোল, রাতে ডিমভুনা মাসের শেষের হিসাব মেলানো থেকে শুরু করে দ্রুত পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন, সব ক্ষেত্রেই ভরসার নাম ডিম। দাম তুলনামূলক কম, রান্না সহজ, আর পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে প্রতিদিন ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে? নাকি শরীরের জন্য আরও উপকার হয়?

এই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, ডিমকে ‘সম্পূর্ণ প্রোটিনের’ অন্যতম সেরা উৎস বলা হয়। একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি থাকে ভিটামিন, মিনারেল, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ডা. শেঠির মতে, ডিমের কুসুমে প্রায় ২.৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

একটানা ১৪ দিন ডিম খেলে যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে জানিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি। এগুলো হলো:  

১. চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো পুষ্টি উপাদান চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

২. মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী

ডিমে প্রচুর কোলিন থাকে, যা স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে পরিমিত ডিম খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।

৩. স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরল

ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির মতে, ডিম শরীরের ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয় এবং সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।  যারা ডিম খান না, তাদের জন্য ডা. শেঠি টোফুকে ভালো বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। টোফুতেও উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা

দু’দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী

টানা ১৪ দিন ডিম খেলেই শরীরে যে ৩টি বড় পরিবর্তন দেখতে পারেন

টানা পঞ্চমবারের মতো পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্য

বিরোধী দলের নেতারা শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন: মির্জা ফখরুল

বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে অটোচালক নিহত, একই পরিবারের চারজনসহ আহত ৫

রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

ছোট্ট যে ২ আমলে বান্দার গুনাহ ঝরে যায়

পুলিশ টিমকে একসঙ্গে চা বা বিশ্রামে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

হামের সংক্রমণেও টিকা কার্যকর,বলছে আইসিডিডিআর,বি

১১

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই গুগল পিক্সেল ১১ সিরিজের দামের তথ্য ফাঁস

১২