ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরে (সিএমএসডি) ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ স্যালাইন মজুত রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন সংরক্ষিত আছে।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হঠাৎ করে স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে গেলে তা মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) সরকারের কাছে অনুদান হিসেবে ১ লাখ ইন্ট্রাভেনাস (আইভি) ফ্লুইড বা স্যালাইন প্রদান করেছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল। কোনো ভেন্টিলেটর, প্রয়োজনীয় মেশিন, ভিটামিন ‘এ’ ট্যাবলেট, ভ্যাকসিন এমনকি পর্যাপ্ত সিরিঞ্জও রেখে যাওয়া হয়নি। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় সরকার হামের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করেছে।
দেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম হলে এ খাতের পরিসর আরও বাড়বে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালটি বৈধ না অবৈধ—সেটি জেনেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই দিন সময় চেয়েছে। সেই সময় দেয়া হয়েছে। আগামীকাল তাদের উত্তর পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, আইনগতভাবে কী ধরনের ব্যত্যয় বা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বিষয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার তার অবস্থানে অটল রয়েছে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না।
হাম পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, হামের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।