দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশইনের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৩৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার, রাতভর পাহারা, মাইকিং ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ পরিচালনা করছে বিজিবি।
সোমবার (৮ জুন) সরেজমিনে মাধবপুরের মনতলা ও ধর্মঘর সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আনসার সদস্য ও গ্রামবাসীদের সম্পৃক্ত করে সীমান্ত পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। দিন-রাত টহলের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মাধবপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবির ২৫ ও ৫৫ ব্যাটালিয়ন। ২৫ বিজিবির অধীনে ধর্মঘর, বড়জালা ও হরষপুর বিওপি এবং ৫৫ বিজিবির অধীনে মনতলা, রাজেন্দ্রপুর, হরিনখোলা ও তেলিয়াপাড়া বিওপি সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে।
ধর্মঘর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মোহনপুর এলাকার ইউপি সদস্য মামুন মিয়া জানান, রোববার রাতেও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি সদস্যরা এলাকায় পাহারা দিয়েছেন। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। মোহনাপুর এলাকার জেবু মিয়া নামের এক ব্যক্তি জানান, গতরাতে ৯৪ পিলারের ফোর এস এর কাছে রাতভর পাহারায় ছিল গ্রামবাসী ও বিজিবি।
৫৫ বিজিবির মনতলা বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার মনির হোসেন জানান, পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আনসার সদস্য ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
২৫ বিজিবির ধর্মঘর বিওপির কমান্ডার সুবেদার সিরাজুল ইসলাম জানান, জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি যাতে কেউ অপ্রয়োজনে অবস্থান না করে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ সীমান্ত দিয়ে পুশইনের কোনো চেষ্টার খবর পাওয়া যায়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।